মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

এক মাসে ২৭ দিন অনুপস্থিত সেই বিতর্কিত পিআইও নুরুন্নবী

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি / ১১৫ বার পঠিত
সময় : বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১, ১১:২৫ অপরাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বিতর্কিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকার তিন দিনের জন্য ছুটি নিয়ে দীর্ঘ এক মাস ধরে নিজ কার্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে করে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ আটকে গেছে।

বুধবার বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ইউএনও বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে ২১ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। তিনি আর বাঘাইছড়ি যোগদান করবেন না বলে জানিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে, বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. জাফর আলী খান, রপকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্যামল চাকমা, বাঘাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনিল বিহারি চাকমা ও মারিশ্যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মানব জ্যোতি চাকমা বসে আছেন। এ সময় তারা দাবি করেন, পিআইও নুরুন্নবী সরকার দীর্ঘ এক মাস অনুপস্থিত থাকায় বিভিন্ন সময় হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বরাদ্দ আটকে আছে। অনেকে কাজ করেও বিল পাচ্ছেন না।ফোন দিলেও পিআইও ফোন ধরছে না। ফলে পুরো অফিসিয়াল কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে।’

তারা বলেন, ‘সামনে ঈদ ও করোনা মোকাবিলায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সরকারের বিভিন্ন ত্রাণ সহায়তা আটকে আছে। ফলে জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় যেতে পারছেন না।’

বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফর আলী খান বলেন, এই দুর্নীতিবাজ পিআইও’র কারণে আমরা পদে পদে লাঞ্ছিত হচ্ছি। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ করবো দ্রুত তাকে অপসারণ করে নতুন পিআইও নিয়োগ দেয়ার।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে যোগদান করেন নুরুন্নবী সরকার। এরপর থেকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অসদাচরণসহ নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুনীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) পাঁচটি মামলা হয়।

এসব অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর তাকে চট্টগ্রামের সন্দীপে শাস্তিমূলক বলদি করে দুর্যোগ অধিদফতর। এরপর তিনি বদলি বাতিল করতে উচ্চ আদালতের শরনাপন্ন হন। দুই মাস পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট বদলির আদেশ বহাল রেখে রায় দেয়। পরে অধিদফতর তাকে সন্দীপ থেকে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বদলি করে। এরপর তিনি ২৫ মার্চ যোগদান করতে বাধ্য হয় বাঘাইছড়িতে।

সুন্দরগঞ্জে কর্মরত থাকালীন নানা অভিযোগ ও অসদাচরণের কারণে ‘বিতর্কিত পিআইও’ হিসেবে পরিচিত পান তিনি। বাঘাইছড়িতে যোগদানের পর সেখানেও সরকারি অফিস কক্ষে প্রকাশ্যে ধুমপানসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে।

সেই সাথে গত ২৪ ফেব্রয়ারি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা পরিষদে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এই নুরুন্নবী সরকারের অফিস কক্ষে ঢুকে ইউপি সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। যা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।

এছাড়া সুন্দরগঞ্জে দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায়ে (শৃঙ্খলা ও অপীল) বিধিমালা-২০১৮ মোতাবেক তার বিরুদ্ধে গত ১৪ মার্চ বিভাগীয় মামলা করে অধিদফতর। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে লঘুদন্ড হিসেবে নুরুন্নবী সরকারের বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ (১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন) নির্ধারণ করা হয়েছে। অথাৎ তিনি ১০ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন পাবেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর