বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গাইবান্ধায় দর্জি শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও সেলাই সামগ্রী বিতরন স্থানীয় সম্পাদকদের সাথে প্রেসক্লাব গাইবান্ধার মতবিনিময় ক্রেতা সেজে গাজা ব্যবসায়ীকে নিজেই গ্রেফতার করলেন ডিবির ওসি ভূয়া র‌্যাব পরিচয়ে প্রতারনা, যুবক গ্রেফতার রকি হত্যা মামলার প্রধান আসামী কাঞ্চন ও সোহাগ গ্রেফতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন আতোয়ার রহমান জাফরুল স্মৃতি সংসদ নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ী টিম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বোয়ালীর জনগনের সেবক হিসেবে কাজ করতে চান জাহিদ গাইবান্ধা পানি নিস্কাশন ড্রেন ও স্লাব নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন-হুইপ মা হারালেন সাংবাদিক সম্রাট!

ব্যবসায়ী হাসান হত্যাকাণ্ড: দায়ী কে?

জাভেদ হোসেন, সম্পাদক, বিডি পোস্ট: / ১৬০ বার পঠিত
সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতিনিয়ত আমরা কোন না কোনভাবে পুলিশের মুখোমুখি হই। আমরা পুলিশকে অনেক দায়িত্ব পালন করতে দেখি। আমরা পুলিশ সম্পর্কে পত্র পত্রিকা, টেলিভিশন ও জনসাধারণের কাছ থেকে প্রচুর শুনতে পাই। প্রত্যেকেরই পুলিশ সম্পর্কে একটা মতামত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ মানুষই তাদের সম্পর্কে খুব কম জানি।

বাংলাদেশের পুলিশ কখনও জনগণের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি; শুনতে ভাল না লাগলেও কথাটা বাস্তব। মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড এবং তারপর বিভিন্ন থানার ওসিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর পুলিশের ভাবমূর্তি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধায় পাদুকা ব্যবসায়ী হাসান আলীর মৃত্যুতেও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। হাসান আলীকে অপহরণ, অত:পর উদ্ধার এবং পূণরায় অপহরণকারীর জিম্মায় তাকে তুলে দেয়ার পর সেখান থেকে হাসান আলীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার। এই ঘটনাগুলো মুখোমুখি দাড় করালে পুলিশ যে অপরাধীর দোসর কিংবা এই অপরাধের সাথে পুলিশ সমানভাবে দায়ী এতে কোন সন্দেহ নেই।

অপহৃত ব্যক্তিকে পুলিশ উদ্ধার করে আবার অপহরণকারীর জিম্মায় তাকে দিয়ে দেয়া এমন বিরল ঘটনা শুধু বাংলাদেশে কেন বিশ্বের কোন দেশে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন; পুলিশের এমন ভূমিকার পিছনে আদৌ কী কোন অদৃশ্য শক্তির হাত রয়েছে?

গত ১০ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানার বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী হাসান আলীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই নিহত হাসান আলীর স্ত্রী বাদি হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনে মাসুদ রানাসহ তিনজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ অজানা কারণে এক দিন পর মামলাটি রুজু করে। হাসান আলীর স্ত্রী বিথী বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন, হাসান আলীকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মাসুদ রানাকে ওই দিনেই পুলিশ গ্রেফতার করে।

অন্যদিকে, পুলিশের গাফিলতির তদন্তে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) রাহাত গাওহারী, গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আবু খায়ের এবং পুলিশ পরিদর্শক আবদুল লতিফ মিয়াসহ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে ২০ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।  এরপর দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারসহ ওসি মাহাফুজুর রহমানের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়।

বলা বাহুল্য এখানেও পুলিশ অতি কৌশলে তাদের অপরাধগুলো আঁড়াল করার চেষ্টায় মরিয়া। কেননা এই অপরাধে দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় না এনে লোক দেখানো ক্লোজ করা হয়েছে। আর থানার ইনচার্জ তিনি কোনভাবে এই দায় এড়াতে পারেন না। অথচ তাকে শুধু কারণ দর্শানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

আমরা চাই হাসান হত্যার প্রকৃত খুনিদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক। সেই সাথে প্রশ্ন হাসান হত্যাকাণ্ডের দায় কী তথাকথিত সমাজ ব্যবস্থায় পুঁজিপতিদের সুদের করালগ্রাস; নাকি পুলিশের দায়িত্বের চরম অবহেলা?

হাসানের মতো এমন অনেক ঘটনার জন্য আমাদের দেশে জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী বরাবরই কলঙ্কিত হচ্ছে। হারাচ্ছে জনগণের আস্থা। কষ্টার্জিত স্বাধীন দেশে এমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোন বাঙালীর কাম্য হতে পারে না। তাই যা হারিয়েছি; তা আমরা যদিও ফিরে পাবো না; তারপরও আমাদের প্রত্যাশা সকল কলঙ্ক মুছে পুলিশ বাহিনী ফিরে আসুক জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার  প্রতীক হয়ে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর