মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৬:১৮ অপরাহ্ন

দাদন ব্যবসায়ী কে এই মাসুদ রানা?

জাভেদ হোসেন, সম্পাদক, বিডিপোস্ট / ২৯৪ বার পঠিত
সময় : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাসুদ রানা ওরফে বংকা মাসুদ। এ নামেই পরিচিতি তার সর্বত্র। গাইবান্ধায় শৈশব না কাটলেও দাপুটে প্রভাব ঠিকই ছিল জেলাজুড়ে তার। অবৈধ মহেন্দ্র ট্রাক্টকের (কাঁকড়া) ব্যবসা ছিল তার লোক দেখানো মাত্র। এই ব্যবসাকে পুঁজি করেই মাসুদ রানা বাগিয়ে নিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক পদ ! এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০১৬ সালে হঠাৎ করেই কাঁকের মতো উড়ে আসা মাসুদ রানা পেয়ে বসেন দলীয় পদ পদবি। সেই থেকে অবৈধ টাকা আর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পুরো জেলাজুড়েই শুরু করেন জমজমাট দাদনের (সুদ) ব্যবসা। পাশাপাশি নিজেকে চাঙ্গা করে সর্বত্র চালিয়েছেন নানা অপকর্ম।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় মন্ত্রী ও এমপি’র কাছের লোক থেকে শুরু করে জেলা আ. লীগের সম্পাদকের নাম ভাঙিয়ে মানুষ ঠকানোই ছিল মাছুদ রানার আয়ের মূল উৎস। এক্ষেত্রে প্রত্যন্ত গ্রামের সহজ সরল মানুষরাই ছিল তার মূল টার্গেট। এছাড়া বেছে বেছে শহরের অসহায় ব্যবসায়ীদের উপযাচক হয়ে সুদের উপর টাকা দিয়ে ইচ্ছেমতো লাভের হিসেব কষতেন তিনি। এসব ব্যবসায়ীদের কাছে আসলের (মূলধন) অংশ রেখে বরাবরই লাভের টাকা আদায় করতেন তিনি। তার ফাঁদে পা দিয়ে শহরের প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী আজ দেউলিয়া।

সমালোচিত এই ব্যক্তিকে সম্প্রতি একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, মাসুদ রানা নিজেকে সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহর হোসেন চৌধুরীর ভাই বলে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয়ের আঁড়ালে ছিল তার আরও নানা অপকর্ম। তবে তার এসব অপ-কর্মকাণ্ডের অন্যতম শক্তি কে ছিলেন তা এখনও অজানা। তবে তিনি জেলার প্রভাবশালী একাধিক নেতার ছত্র ছাঁয়ায় থেকে এসব করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা শহরের নারায়ণপুর গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে মাসুদ রানা। বাবার চাকরির সুবাদে তিনি বেড়ে ওঠেন লালমনিরহাট জেলা শহরে। তার বাবা মোখলেছুর রহমান সে সময় লালমনিরহাট রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার ছিলেন। চাকরি অবসরের পর তিনি স্ব পরিবারে ফেরেন গাইবান্ধায়।

মাসুদ রানার শৈশব কেটেছে বাবার কর্মস্থলে। ছাত্র জীবনে তিনি লালমনিরহাটে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সে সময় উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর ছত্রছায়ায় থেকেও নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন মাসুদ। এসব তথ্য তার কাছের একটি সূত্র থেকে পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের জেলা কাউন্সিলে পর হঠাৎ-ই মাসুদ রানার নাম উপ-দপ্তর সম্পাদক পদে দেখতে পান জেলা নেতৃবৃন্দ। এরপর এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তখন জেলার প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে কয়েকজন তার পক্ষে সুপারিশ করলে তার স্থান ওই পদেই থেকে যায়। শুরু হয় আওয়ামী লীগের জেলা নেতা হিসেবে মাসুদ রানার পথ চলা।

জেলার সেই সব নেতার আস্থাভাজন হয়ে ওঠা মাসুদ এরপর থেকে জেলাকে অভয়অরণ্য ভেবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। জেলার প্রতিটি উপজেলাতে রয়েছে মাসুদ রানার কিছু কর্মী বাহিনী। যাদের তিনি ব্যবহার করতেন ব্যক্তিগত প্রয়োজনে।

সচারাচর আওয়ামী লীগের মিছিল, মিটিং কিংবা শোডাউনে মাসুদকে দেখা না গেলেও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুল দিয়ে সেই ছবির অপব্যবহার ঠিকই করতেন মাসুদ রানা।

জানা গেছে, মাসুদ রানা গত কয়েক বছর আগে একযোগে কয়েকটি মহেন্দ্র ট্রাক্টর (কাঁকড়া) গাড়ী ক্রয় করেন। এরপর সিন্ডিকেট গড়ে চালিয়ে যান অবৈধ বালু-মাটির ব্যবসা। আধিপত্যবিস্তার করে অল্প দিনের মধ্যে জেলার নদী এলাকাগুলো দখলে নেন তিনি। স্থানীয়রা তাকে কিছু বলতে গেলে পুলিশের ভয় দেখিয়ে তার নামে দেয়া হতো মামলা। মাঝে মাঝে তাকে পুলিশ বহর নিয়ে বালুর পয়েন্টগুলোতেও দেখা যেত।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার দুপুরে (১০ মার্চ) সদর উপজেলার বল্লমঝার ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের (খানকাহ শরীফ) বাড়ি থেকে জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় অভিযুক্ত মাসুদ রানাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। মাসুদ রানা সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে।

গত ৫ মার্চ হাসান আলীকে অপহরণ করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আটক করে রাখেন মাসুদ রানা। পরে ১৫ মার্চ পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ হাসান আলীকে উদ্ধার করে সদর থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু পুলিশ মাসুদ রানার পক্ষে প্রভাবিত হয়ে আবারও তার জিম্মায় হাসান আলীকে তুলে দেয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর