বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গাইবান্ধায় দর্জি শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও সেলাই সামগ্রী বিতরন স্থানীয় সম্পাদকদের সাথে প্রেসক্লাব গাইবান্ধার মতবিনিময় ক্রেতা সেজে গাজা ব্যবসায়ীকে নিজেই গ্রেফতার করলেন ডিবির ওসি ভূয়া র‌্যাব পরিচয়ে প্রতারনা, যুবক গ্রেফতার রকি হত্যা মামলার প্রধান আসামী কাঞ্চন ও সোহাগ গ্রেফতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন আতোয়ার রহমান জাফরুল স্মৃতি সংসদ নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ী টিম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বোয়ালীর জনগনের সেবক হিসেবে কাজ করতে চান জাহিদ গাইবান্ধা পানি নিস্কাশন ড্রেন ও স্লাব নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন-হুইপ মা হারালেন সাংবাদিক সম্রাট!

পোড়া ক্ষত শুকালেও অর্থাভাবে দুই চোখের আলো ফেরেনি মমিনের

মাসুম বিল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৬৯ বার পঠিত
সময় : রবিবার, ২ মে, ২০২১, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মমিন মিয়া। বয়স ৩৬ ছুঁইছুঁই। এক সময়ের ব্যবসায়ী মমিন হঠাৎ দেনাদার হয়ে ছাড়েন ভিটেমাটি। ঋণ পরিশোধ আর সুখের আশায় পাড়ি জমান রাজধানী ঢাকায়। কাজ শুরু করেন কমিউনিটি সেন্টারের বাবুর্চির সহকারী হিসেবে। পনের হাজার টাকা বেতনে ভালই চলছিল সে সময় তার সংসার।

বিধিবাম! হঠাৎ কমিউনিটি ওই সেন্টারে আঁচার (চাটনি) তৈরির সময় কড়াইয়ের গরম তেল পড়ে চোখে-মুখে। ভর্তি হন হাসপাতালে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ত্রপচারেও তার সেই বাম চোখ ফেরানো যায়নি।

এই ঘটনার দুই বছর আগে ছ মিলে কাঠ ফারাইয়ের সময় নিজ গ্রামে ডান চোখে কাঠের গুড়া পড়ে। তীব্র লাল হতে থাকে তার চোখ। পরে ঢাকার শ্যামলী চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ডান চোখে করান অস্ত্রপচার। কিন্তু তাতেও ফেরানো যায়নি মমিনের চোখ। এখন মমিনের দুই চোখেই অন্ধ।

তাছাড়া ঢাকার ওয়ারী পার্টি সেন্টার নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ শুরুর দুই বছরের মাথায় গ্যাসের আগুনে শরীর পুড়েও বেঁচে যান মমিন মিয়া। এ ঘটনায় তার দুই হাত, পা ও গলা পুড়ে ঝলসে যায়। সময়ের ব্যবধানে ভালো হয় সেই পোড়া ক্ষত। তবে অর্থাভাবে তার দুই চোখ এখনও ফেরানো যায়নি।

পাঠক বলছিলাম, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের খামার কঞ্চিপাড়া গ্রামের সমিতির বাজার এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মমিন মিয়া কথা। যিনি দুই চোখ হারিয়ে জীবনযুদ্ধে এক পাহাড় সমান হতাশায় ভুগছেন। একমাত্র কর্মক্ষম মমিন কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবারটি যেন ডুবছে অন্ধকার হতে অন্ধকারে।

সেই সাথে তের বছরের মেয়ে মীম আকতার, দশ বছর বয়সী আসিফ মিয়া ও আট বছরের শাকিল মিয়ার পড়ালেখার খরচ চালাতে পারছেন না বাবা মমিন মিয়া। এতে করে তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে, দুই দফায় অপারেশনের পরও দুই চোখ ভালো না হওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেশি দেশ ভারতে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। কিন্তু টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্ধ মমিন মিয়ার স্ত্রী নাসরিন বেগম।

তিনি জানান, ‘ডাক্তাররা তার স্বামীকে ভারতে চিকিৎসা করার পরামর্শ দিয়েছেন। সে দেশে অপারেশন করলে চোখ ভালো হয়ে যাবে তার স্বামীর। কিন্তু অর্থাভাবে তিনি তার স্বামীকে ভারতে নিতে পারছেন না।

তিনি বিডি পোস্টকে বলেন, ‘সন্তানদের বাপ অন্ধ। চোখে দেখে না। কিন্তু আমি মা; ছেলে-মেয়ের মুখের দিকে তাকালে বুকটা ফাটি যায়। ঘরত খাবার নাই; ছোলগুলের বই খাতা কেনার টাকা নাই। খুব বিপদে আছি।’

কঞ্চিপাড়া এমইউ একাডেমি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মমিন মিয়ার মেয়ে মীম আক্তার বলেন, ‘আমি পড়ালেখা করতে চাই! কিন্তু বাবা খরচ দিতে পারে না। বই-খাতা, স্কুলের খরচ কই পাই।’

মমিন মিয়া বলেন, ‘নিজেকে নিয়ে খুব কষ্ট হয়। এক এক করে দুটি চোখেই নষ্ট হয়ে গেল। কিভাবে বেঁচে থাকবো জানি না।’

এ সময় স্ত্রী-সন্তানদের কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ‘আমি পৃথিবীটা দেখতে চাই। আবার কাজ করতে চাই! স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালভাবে বাঁচতে চাই।’

ভারতে গিয়ে চোখ অপারেশনের খরচ ও ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচের জন্য বিত্তবান ও দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন অন্ধ মমিন মিয়া।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর