মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন

শত বছরের চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া প্রভাবশালীর, অবরুদ্ধ ১০ হিন্দু পরিবার

জিহাদ হক্কানী, গাইবান্ধা / ২১২ বার পঠিত
সময় : রবিবার, ২ মে, ২০২১, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের সীচা পালপাড়া গ্রামে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করায় ১০টি হিন্দু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি বন্ধ করায় এসব পরিবারের লোকজন গত ২৭ দিন ধরে চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

প্রতিবেশি শ্রী চন্ডি চরণ পালসহ তার সহযোগীরা শত বছরের চলাচলের এই রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিকার চেয়ে অবরুদ্ধ ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রী জগদীশ চন্দ্র বর্মন সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে এখনও থানা পুলিশ রাস্তা চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি।

অভিযোগে জানা যায়, শ্রী জগদীশ চন্দ্র বর্মনসহ তার প্রতিবেশীরা বাপ দাদার আমল থেকে এই মাটির রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করছেন। এদিকে ভবিষ্যতে এই রাস্তা নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হওয়ার আশংকা করে বাদিপক্ষরা রাস্তার জমির মালিক তরুণ কান্ত পাল (ভাদু) এর নিকট থেকে রাস্তার জমি ক্রয় করে নেন। রাস্তার জমিদাতা সাথে বিবাদীদের জমিজমা বিষয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। যা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার আশংকা নেই।

এদিকে বিবাদীগণ জন দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গত ৪ এপ্রিল যাতায়াতের রাস্তায় বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এতে পুরো রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জানায়, পুরো রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ছিল ২০০ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট। ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে ওই সব পরিবারগুলো রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ গত ৪ এপ্রিল প্রতিবেশী রাস্তাটিতে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেয়।

পরিবারগুলো বাধা দিতে গেলে শ্রী চন্ডি চরণ পাল ও তার সহযোগীরা রাস্তার মধ্যে টিনসেট ঘর তৈরি করে যাতায়াতের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেন। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ১০টি পরিবারের সদস্যরা বেকায়দায় পড়েছেন।

অবরুদ্ধ একটি পরিবারের সদস্য শ্রী জগদীশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘১০টি পরিবারের সদস্যরা গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা করেন। সে কারণে সবাই বাপদাদার জমিতে বসবাস করছেন। সবাই শান্তি প্রিয় মানুষ। যে ব্যক্তি রাস্তাটি বন্ধ করেছেন, তিনি একজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। ১০০ বছর ধরে ওই রাস্তাটি দিয়ে পরিবারগুলো চলাচল করছে। হঠাৎ করে শ্রী চন্ডি চরণ পাল ও তার লোকজন রাস্তার জমি দাবি করে সেটি দখলে নেন।

তিনি বলেন, ‘২৭ দিন ধরে চলাচলে আমরা বেকায়দার মধ্যে রয়েছি। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’

অভিযুক্ত শ্রী চন্ডি চরণ পাল বলেন, ‘ওই সব পরিবার যে জমি কিনেছে, সেগুলোও আমাদের বাপ-চাচার ছিল। রাস্তার পুরো জমিটি আমাদের। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করেছে। আমার প্রয়োজন হওয়ায় এখন জমিটি নিয়েছি। এখানে দখলের প্রশ্ন আসবে কেন?

সুন্দরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফ বলেন, ‘পুরো বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাস্তাটি বন্ধ না করতে শ্রী চন্ডি চরন পালকে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি শোনেননি। তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর