মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন

দাদন: হাসান-কোব্বাসের পর প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

জিহাদ হক্কানী / ১৫৩ বার পঠিত
সময় : শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১, ৯:১১ পূর্বাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দাদনের চাপে জাহাঙ্গীর শেখ নামে এক রিকশাভ্যান চালক মাত্রাতিরিক্ত গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে দাদনের চাপে গেল দুই মাসের ব্যবধানে গাইবান্ধায় প্রাণ গেছে তিনজনের।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান জাহাঙ্গীর শেখ।

তার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের নাগেরভিটা গ্রামে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এক বছর আগে স্থানীয় ‘নাগের ভিটা’ সমিতি থেকে সুদে ১০ হাজার টাকা নেয় জাহাঙ্গীর শেখ। গত ১১ মাসের আসলের লাভের অর্থ পরিশোধ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার গত মাসের লাভের এক হাজার টাকা দিতে ব্যর্থ হন জাহাঙ্গীর।

সকালে সবজি বোঝাই ভ্যান নিয়ে বগুড়ার মহাস্থান হাটে যাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর। কিছুদূর যাওয়ার পর সুদ ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামসহ পাঁচ-ছয় জন তার পথরোধ করে। এ সময় লাভের এক হাজার টাকা সপ্তাহ পরে দিতে চাইলে জাহাঙ্গীরকে চর-খাপ্পর মারেন তারা। পরে সব সবজি মাটিতে ফেলে ভ্যানটি নিয়ে যায় সুদ ব্যবসায়ীরা।

নিহতের ভাই কুদ্দুস শেখ জানান, ঘটনার পর অপমান সইতে না পেরে তার ভাই মাত্রাতিরিক্ত গ্যাসের ট্যাবলেট সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন সন্ধ্যার দিকে মারা যান তার ভাই।

তিনি বলেন, ‘মামলা করমো। ভাইয়ের মৃত্যু সুদেরুদের জন্যেই হচে। তামার পাওয়ার বাড়চে। ভ্যান খেনও নিচে।’

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘জাহাঙ্গীর শেখ মাত্রাতিরিক্ত গ্যাসের ট্যাবলেট সেবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।’

তিনি বলেন, ‘পরিবারের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে মাত্রাতিরিক্ত ট্যাবলেট সেবনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদি হাসান জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ভ্যানটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

এদিকে, সুদের টাকার জন্য জেলা শহরের থানাপাড়া এলাকার জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীকে অপহরণের পর বাড়িতে আটকে রাখেন দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানা। গত ১০ এপ্রিল সদর উপজেলার বল্লমঝার ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর গত ২৬ এপ্রিল দাদনের চাপে গলায় দড়ি দেন সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের রথেরবাজার (জেলাল পাড়া) গ্রামের বাসচালক কোব্বাস আলী।

এসব ঘটনার মধ্যে সাদুল্লাপুরের পূর্ব দামোদরপুরে সুদের কারবারি ছয় ভাইয়ের নির্যাতনে রিকশাভ্যান চালক ছকু মিয়ার মৃত্যু হয়।

গাজীপুরের শ্রীপুরে ৩ জুন দুপুরে ছেলের বাসায় মৃত্যু হয় তার।

এর আগে গত ১৫ মে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব দামোদরপুর গ্রামে রিকশাভ্যানচালক ছকুর ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

ছকুর পরিবারের অভিযোগ, গ্রামের ছয় ভাই আলমগীর, আংগুর, রনজু, মনজু, সনজু ও মন্টু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাদনের কারবার চালিয়ে আসছেন। গত ১৫ মে সন্ধ্যায় মন্টু মিয়ার মেয়ে প্রতিবেশী ছকুর ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে মন্টুসহ তার পাঁচ ভাই দল বেঁধে ছকুর বাড়িতে যান। তারা ছকুকে রাতভর পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, পিটিয়ে তারা ছকুর এক হাত ও এক পা ভেঙে দেন। তার একটি দাঁতও ভাঙা হয়। রাতভর নির্যাতনের পরদিনও ছকুকে নিজের বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয়।

১৬ মে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ ছকুকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে

সম্প্রতি এসব ঘটনায় জেলাজুড়েই বইছে চাপা ক্ষোভ। বিচারের দাবিতে চলছে বিক্ষোভ-আন্দোলন। তবুও থেমে নেই সুদ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর