বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গাইবান্ধায় দর্জি শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও সেলাই সামগ্রী বিতরন স্থানীয় সম্পাদকদের সাথে প্রেসক্লাব গাইবান্ধার মতবিনিময় ক্রেতা সেজে গাজা ব্যবসায়ীকে নিজেই গ্রেফতার করলেন ডিবির ওসি ভূয়া র‌্যাব পরিচয়ে প্রতারনা, যুবক গ্রেফতার রকি হত্যা মামলার প্রধান আসামী কাঞ্চন ও সোহাগ গ্রেফতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন আতোয়ার রহমান জাফরুল স্মৃতি সংসদ নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ী টিম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বোয়ালীর জনগনের সেবক হিসেবে কাজ করতে চান জাহিদ গাইবান্ধা পানি নিস্কাশন ড্রেন ও স্লাব নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন-হুইপ মা হারালেন সাংবাদিক সম্রাট!

খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র-তিস্তার ভাঙনে বদলাচ্ছে গাইবান্ধার মানচিত্র

মাসুম বিল্লাহ / ১৪৭ বার পঠিত
সময় : শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বছর বর্ষা মৌসুম আসতে না আসতেই টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রকট আকারের ভাঙনে গাইবান্ধার তিন উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে দোকানপাট স্কুলসহ বহু সরকারি স্থাপনা।

গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নদী ভাঙনে গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কামারজানি বন্দর, শ্রীপুর ও গোঘাট এলাকাসহ কুন্দেরপাড়া ও খারজানি চরের দেড় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া মোল্লারচর ইউনিয়নের মোল্লারচর, সাপেরচর, হাতিমারা, বাতুলিয়া, চিতুলিয়ার ও দিগার গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন কামারজানির পুটিমারি, হরিপুর ও দত্তের খামার এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন চরের হাজারো মানুষ।

একই ভাবে নদী ভাঙনের কবলে সর্বস্ব হারিয়ে মাথা গোঁজার থাই খুঁজছেন ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য উড়িয়া, গুনভরি ও কাতলামারি গ্রামের শতশত পরিবার।

জেলায় সবচেয়ে নদী ভাঙন বেশি দেখা দিয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কাশিমবাজার এলাকায়। সেখানে তিন শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি, আবাদি জমিসহ গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে পড়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ বাজারের দোকানপাট।

স্থানীয়রা বলছেন, গেল দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে তিন উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, শতাধিক একর আবাদি জমি ও অসংখ্য গাছপালাসহ বহু স্থাপনা। ভিটেমাটি হারিয়ে এসব অসহায় মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ ওয়াপদা বাধসহ বিভিন্ন জায়গায়। আয়-রোজগারের পথ হারিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম কষ্টে।

অসহায় হয়ে পড়া এসব নিম্নআয়ের ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। আর বরাবরের মতোই ভাঙন ঠেকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে চরাঞ্চলের পূর্ব তীরের কুন্দেরপাড়া ও খারজানি চরে ভাঙন ঠেকাতে কোন পদক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছরেই তাদের সব হারিয়ে ঠিকানা বদলাতে হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিতেই এভাবে বাড়ছে নদী ভাঙন। ভাঙন রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ না নেয়ায় ভাঙনের মুখে পড়ছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।

গত পাঁচ বছর আগে নিজের ভিটেমাটি হারিয়ে সদর উপজেলার পোড়ার চরের গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নেন আমিরন বেওয়া। তবে বছর দুয়েক পর সেটিও বিলীন হয় ব্রহ্মপুত্রে। পরে তার আশ্রয় হয় শ্রীপুর ওয়াপদা বাধে। তবে এবার বর্ষার আগেই ভাঙন শুরু হলে আতঙ্কে ঘর ভেঙে বাধের পশ্চিম পাশে নিয়েছেন তিনি। তার মতোই এখানকার শতাধিক পরিবারও হুমকির মুখে সড়িয়ে নিয়েছেন তাদের বসতবাড়ি ও আসবাবপত্র।

এ নিয়ে বিধবা আমিরন বেওয়া বলেন, ‘হামার তো সোগ শেষ। নদী ভাঙতি ভাঙতি ঘরত আসচি। কখন বেন ঘর নিয়ে যায়। নাই টেকা; নাই পয়সা। এখন পেটে বাঁচাই না জমিনে কিনি।’

দিনমজুর কাওছার আলী বলেন, ‘আছনো গুচ্চ গ্রামত। সেটাও চলি গেছে নদীত। এখন বান্দত আশ্রয় নিছি। সেটিও ভাঙন; এবার বান্দও যাবি নদীত। তাইলে কোটে যায়া দাঁড়ামো।

শ্রীপুরের মাদরাসা এলাকার হায়দার আলী বলেন, ‘বাধ ভাঙতিছি। কতগুলে ঘর চলি গেল। একদিন বস্তা মারে; সাত দিন নাই। এংকা করি ভাঙন থামবে কও তোমরা। হামরা তো এহন নিরুপায়; পেটত ভাত নাই, থাকার জাগাও নাই। ঘর-বাড়ি নিয়ে দৌঁড়ঝাপত পড়চি।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, ‘বর্ষার আগে থেকেই নদীর পূর্ব দিকের ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে পশ্চিম পাশের ভাঙন রোধে তেমন কোন কর্মসূচি নেই। আর কাশিমবাজার এলাকাটি গাইবান্ধার মানচিত্রে থাকলেও এলাকাটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল মতিন বলেন, ‘ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়াসহ তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর