মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন

১৮ দিন পর সাদুল্লাপুরের সেই রিকশাচালকের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি / ৪৫৫ বার পঠিত
সময় : সোমবার, ২১ জুন, ২০২১, ৮:১৯ অপরাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দাফনের ১৮ দিন পর গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের সেই রিকশাচালক ছকু মিয়ার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

এ সময় জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হোসেনসহ সাদুল্লাপুর থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মরদেহ উত্তোলনের খবর পেয়ে দামোদরপুর ইউনিয়ন ছাড়াও কয়েক গ্রামের শতশত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।

এর আগে গত ১৬ জুন নির্যাতনে ছকু মিয়ার মৃত্যুর অভিযোগে তার ছেলে মোজাম্মেল হক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে (সাদুল্লাপুর) মামলা করেন। আদালতের বিচারক শবনম মুস্তারী সাদুল্লাপুর থানাকে মামলা রেকর্ডভুক্ত করে আগামী ২৩ জুন মরদেহ উত্তোলনসহ প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

এজাহারে বলা হয়, সাদুল্লাপুর উপজেলার পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের ছয় ভাই আলমগীর, আংগুর, রনজু, মনজু, সনজু ও মন্টু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাদনের কারবারে জড়িত। তাদের সঙ্গে রিকশা চালক ছকু মিয়ার পারিবারিক ও দাদনের টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ছকুর ছেলের সঙ্গে মন্টু মিয়ার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সেই বিরোধ আরও বাড়ে।

এ নিয়ে গত ১৫ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছকু মিয়ার বাড়িতে যায় ছয় ভাইসহ তাদের লোকজন। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মারধর শুরু করে ছকুকে। তাদের মধ্যে রনজু মিয়া হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ছকুর গোপনাঙ্গে লাথি দেন। আর মন্টু বুকের ওপর দুই পা দিয়ে পরপর কয়েকবার আঘাত করেন। এভাবেই রাতভর ছকুর ওপর ছয় ভাই ও তাদের লোকজন চালায় নির্যাতন।

পরদিন গুরুতর ছকুকে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিতে গেলে ছয় ভাই বাধা দেয়। সেই সঙ্গে হত্যার হুমকি আর ভিটে ছাড়ার ভয় দেখানো হয়।

এই ঘটনা ১৬ মে বিকেলে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর নজরে আসে। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছকুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেও তারা ছকু মিয়াকে হত্যার হুমকি দেন।

এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পাঁচদিন পর দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে ‘ছেলের প্রেমের খেসারত’ হিসেবে ছকু মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই টাকার জন্য ছকুর একমাত্র ঘরটিও ১৫ হাজারে বিক্রি করে দেন দাদন কারবারিরা। এরপর তাকে ভিটেছাড়া করা হয়। পরে ছকু মিয়া আশ্রয় নেন গাজীপুরে ছেলের বাসার। সেখানে হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়ার সময় ৩ জুন মৃত্যু হয় তার।

মামলার বাদী ছকু মিয়ার ছেলে পোশাকর্মী মোজাম্মেল হক বলেন ‘আমাকে ঘরে তালা দিয়ে বাবার লাশ কবর দেয় ওরা। এখন আমাকে ও আমার এতিম বোনকে ওরা বাড়ি থেকে বের করে দিছে। আমি ওদের বিচার চাই।’

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর