মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

অবহেলায় রোগী মৃত্যু: তদন্তের নামে মামলা নিচ্ছে না পুলিশ

জাভেদ হোসেন / ২৭৩ বার পঠিত
সময় : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১, ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে জাহেদা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুরের অভিযোগে স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে স্বজনদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার ১৭ দিন অতিবাহিত হলেও মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৮ জুলাই হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। এই ঘটনার তিন দিন পর রোগীর পূত্রবধূ রিনা আক্তার বাদি হয়ে চিকিৎসক ডা. সুজন পালকে ‘মৃত্যুর’ ঘটনায় দায়ী করে সদর থানায় একটি অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেন।

এদিকে, থানায় এজাহার দাখিলের ১৭ দিনেও পুলিশ মামলা রেকর্ডভূক্ত করেনি। এতে রোগীর স্বজনরা হতাশা প্রকাশ করাসহ বিচার হীনতায় ভূগছেন। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিউর রহমান সরেজমিনে অভিযোগটির তদন্ত কাজ শেষ হওয়ার কথা জানালেও থানার ওসির মুখে উল্টো সূর। ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এখনও এটা এ রকমেই আছে। তদন্ত চলছে।’

রোগীর স্বজনরা জানান, গত ১৮ জুন নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন জাহেদা বেগম নামে ওই নারী। এ দিন দুপুরে স্বজনরা তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু সে সময় হাসপাতালের ল্যাব বন্ধ থাকায় বাইর থেকে রক্ত পরীক্ষা শেষে বিকেলে রিপোর্টসহ রোগীকে আবার হাসপাতালে আনা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ধর্ণা ধরেও জাহেদা বেগমকে ভর্তি নেয়নি কর্তপক্ষ। পরে ডা. সুজন পাল তার চেম্বারে রোগীর দুই মাসের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলেন। কিন্তু স্বজনরা বার বার জরুরি বিভাগসহ চিকিৎসকদের অনুনয়-বিনয় করলেও কোন কর্ণপাত করেনি কেউ। এর আঘা ঘণ্টা পর ডা. সুজন পাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেই জাহেদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর রোগী মৃত্যুর অভিযোগ তুলে স্বজনরা দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুজন পালের শাস্তির দাবি করে। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে উভয়পক্ষকে থামিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

পরদিন ১৯ জুলাই হাসপাতালে অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ এনে চিকিৎসক ও নার্সদের মারধর করা হয়েছে উল্লেখ করে রোগীর স্বজন জাহিদুল ইসলাম জাহিদের নাম উল্লেখসহ ৮-৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হারুন অর রশিদ।

মামলায় বলা হয়, গত ১৮ জুলাই বিকেলে জাহেদা বেগম নামে এক মৃত্যু রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসক সুজন পাল রোগীকে মৃত্যু ঘোষণা করলে স্বজনরা চিকিৎসক ও নার্সদের মারধর করে। তারা হাসপাতালে ভাঙচুরও চালায়।

তবে রোগী জাহেদা বেগমের স্বজনদের অভিযোগ, ‘হাসপাতালে অবহেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে স্বজনদের পক্ষে রোগীর পূত্রবধূ রিনা আক্তার বাদি হয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) করেন। কিন্তু তদন্তের নামে থানায় মামলা রেকর্ডভূক্ত না করার অভিযোগ করেন বাদি।

বাদি রিনা আক্তার বলেন, ‘আমার শাশুড়ি অসুস্থ ছিল। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তারপর ডাক্তার ব্লাড টেস্ট করতে দিছে। ব্লাড টেস্ট করে নিয়ে আসার পর ডাক্তার সুজন পাল বলেন, আপনার শাশুড়ি সুস্থ আছে; ভাল আছে। আপনারা তাকে বাসায় নিয়ে যান।

‘এরপর সুজন পালের দুই ঘণ্টা হাত ধরছি, পাও ধরছি তবুও ভর্তি করায় নাই। তারপর শাশুড়ি বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালে মারা গেলে তারা নিজের দোষ ঢাকার জন্য হাসপাতালে ভাঙচুর করে। পরে আমাদেরকে বের করে দিছে।’

রিনা আক্তার আরও বলেন, ‘এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উল্টো আমার স্বামীর নামে হাসপাতালে ভাঙচুরের মামলা দিছে। সেখানে বলা হয়েছে, আমরা নাকি মৃত্যু রোগী হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তাহলে আমার প্রশ্ন হল, ওনারা তাহলে কাকে দুই মাসের ওষধ লিখে দিল। কাকে রিপোর্ট করতে দিল।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা মৃত্যুর এই ঘটনার পর সদর থানায় মামলা করতে গেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের মামলা নেয়নি। আমার স্বামীর নামে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করছি।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় রোগীর স্বজনের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। যার তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে।

গত ১৮ জুন জেলা হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক ‍পিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে থানায় গেছি। থানায় মামলা নেয়নি। আমরা  এসপি’র   (পুলিশ সুপার) সঙ্গেও কথা বলেছি।’

রোগীর স্বজনদের পক্ষে মামলা নেয়ার জন্য আমরা চার-পাঁচজন থানায় গেছি। নতুন ওসি আসছে; সে বলছে যে, মাত্র আসলাম; বিষয়টি দেখবো। কিন্তু পরে সে (ওসি) …..। যাইহোক, উপর থাকি হয়তো বা ইয়ে (নিষেধ) আছে; মনে হয় মামলা এন্ট্রি করবে না।’

এই ভূক্তভোগীর মামলা কেন নেয়া হচ্ছে না সে বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আলোচনা করার কথাও জানান তিনি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “অবহেলায় রোগী মৃত্যু: তদন্তের নামে মামলা নিচ্ছে না পুলিশ”

  1. এরা তো মানুষ নয় মানুষ নামে কুলাজ্ঞার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর