মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

বিভিন্ন কর্মসুচীর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি / ৬৭ বার পঠিত
সময় : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১, ৩:৪০ অপরাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কাউকে পেছনে ফেলে নয়, আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন সামাজিক অঙ্গীকারের আহ্বান” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় মানববন্ধন, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আদিবাসী দি্বস পালিত হয়েছে।

সোমবার(৯ আগষ্ট) দুপুর ১২ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, আদিবাসী ইউনিয়ন ও জনউদ্যোগ গাইবান্ধার আয়োজনে গাইবান্ধা নাট্য সংস্থার সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়াও গোবিন্দগঞ্জের কাটামোড়েও আদিবাসী সমাবেশ, মানবন্ধন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আদিবাসী বাঙালী সংহতি পরিষদের আহবায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, জাসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জনি, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ ও জনউদ্যোগের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর কবির তনু, সনাকের সদস্য জিয়াউল হক কামাল, আদিবাসী নেত্রী প্রিসিলা মুরমু, মানবাধিকার কর্মী অঞ্জলী রানী দেবী, শহীদুল ইসলাম, কাজী আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ রবিদাস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক খিলন রবিদাস, ভূমি উদ্ধার কমিটির নেতা ময়নুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারা দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী মানবাধিকার এবং জীবন মানের সার্বিক দিক দিয়ে আজও নানাভাবে বঞ্চিত এবং সে কারণেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর থেকে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত জনগোষ্ঠী হিসেবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত। এক কথায় বলা যায়, জাতীয় উন্নয়ন কর্মকান্ডের মূল স্রোতধারা থেকেই তারা অনেকটা বিছিন্ন। আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে জাতীয় উন্নয়ন কখনও সম্ভব নয়। বক্তরা আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন প্রতিষ্ঠাসহ ভাষা, সংস্কৃতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

এসময় সভাপতির বক্তব্যে ফিলিমন বাসকে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সাঁওতাল-বাঙালিরা মিলে এদেশ স্বাাধীন করেছে। স্বাধীনতার ৪৮বছর পর তারা নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। সেই ভূমি উদ্ধার করতে গিয়ে জীবন দিয়েছে শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ। এখন তাদের সেই হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ কোন বাংলাদেশে তারা বসবাস করছে। তিনি প্রশ্ন করেন এজন্যই কি মুক্তিযুদ্ধে তারা অংশ নিয়েছিলেন ? আরো বলেন বাগদাফার্মে জমি রক্ষার আন্দোলনে তিন সাঁওতাল হত্যা হয়েছে, বহু সাঁওতাল আহত হয়েছে। কিন্তু তারা আজ পর্যন্ত কোন বিচার পায়নি। অবিলম্বে সাঁওতাল হত্যার বিচার ও বাপদাদার জমি ফেরতের দাবী জানান।

উল্লেখ্যঃ ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ সঙ্গে নিয়ে রংপুর চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমিতে আখ কাটতে যান চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ সময় নিজেদের বাপ-দাদার জমি দাবি করে বাধা দেন সাঁওতালরা। এতে পুলিশ, চিনিকলের শ্রমিক ও সাঁওতালদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে রমেশ টুডু, শ্যামল হেমব্রম ও মঙ্গল মার্ডি নামের তিন সাঁওতাল নিহত হন। আহত হন উভয় পক্ষের ২০ জন। ওই ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে থোমাস হেমব্রম বাদী হয়ে তৎকালীন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সাংসদ আবুল কালাম আজাদ, চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়াল, গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ এবং ৫০০-৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় এজাহার দাখিল করেন।

পুলিশ সেটিকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করলে থমাস হেমব্রমের জিডি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। পিবিআই ২০১৯ সালে ২৩ জুলাই মূল আসামিদের বাদ দিয়ে ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে নারাজি দাখিল করা হয়। নারাজি আমলে নিয়ে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর