মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১১ অপরাহ্ন

উদ্ধার হাজার বোতল ফেনসিডিল হয়ে গেল ১৩৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি / ১৭৬ বার পঠিত
সময় : শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাইবান্ধার ফুলছড়ির বালাসীঘাটে নৌপথে পাঁচারের সময় প্রায় ১ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ
এক যুবককে আটকের দাবি করেছেন তথ্যদাতা। তবে উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিলের জব্দ তালিকায়
দেখানো হয়েছে মাত্র ১৩৬ বোতল। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত
পুলিশের বিচার দাবি জানান সেই তথ্যদাতাসহ প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন।

এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন, বালাসীঘাট নৌ পুলিশ ফাড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)
মো. আখতারুজ্জামান। এছাড়া অভিযানের পর ঘটনাস্থলে ফাড়ির ইনচার্জ মাজেদুর রহমান
উপস্থিত হয়ে জব্দ তালিকা তৈরির না করে চার ব্যাগ ফেনসিডিল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে
ফাড়িতে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের দাবি, অভিযানে চার ব্যাগ ফেনসিডিল উদ্ধার হয়নি। সেখান থেকে এক যুবকসহ দুই ব্যাগ
ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। যার ভিতরে ১৩৬ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ইনচার্জ মাজেদুর রহমান বলেন, 'অভিযান শেষে স্থানীয়দের সামনে প্রকাশ্যে দুই ব্যাগে
থাকা ১৩৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ তালিকা করা হয়। তারপর আটক যুবকসহ সেগুলো ফাড়িতে
নেয়া হয়। এরপর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আটক যুবককে ফুলছড়ি থানায় হস্তান্তর
করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বালাসীঘাটের একটি ডিঙ্গী নৌকা
থেকে চার ব্যাগ ভর্তি ফেনসিডিলসহ একজনকে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার ফেনসিডিলের ব্যাগ
ঘাটে অবস্থিত গাইবান্ধা জেলা নৌ মালিক সমিতির অফিসে নেয়া হয়। সেখানে একটি ব্যাগ
থেকে কিছু সংখ্যক ফেনসিডিল টেবিলে সাজানোর পর পূণরায় সেগুলো ব্যাগভর্তি করে
ফাড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় নিয়ম অনুযায়ী ঘটনাস্থলে জব্দ তালিকা করার কথা
থাকলেও তা করেনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। তবে তাদের দাবি, ঘাট থেকে চারটি ব্যাগ উদ্ধার
করে পুলিশ। যার ভিতরে ৮-৯শ বোতল ফেনসিডিল থাকতে পারে বলে ধারনা স্থানীয়দের।
এই অভিযানের তথ্যদাতা গাইবান্ধা জেলা নৌ মালিক সমিতির সভাপতি লিটন মিয়ার অভিযোগ,
তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল সাড়ে ১০টায় অভিযান চালায় বালাসীঘাট নৌ পুলিশ ফাড়ির
সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আখতারুজ্জামানসহ চার পুলিশ সদস্য। পরে উদ্ধার করা কালো
রংয়ের চার ব্যাগ ফেনসিডিল নেয়া হয় তার অফিস কক্ষে। পরে তার উপস্থিতিতে ব্যাগে থাকা কিছু
সংখ্যক ফেনসিডিল টেবিলে সাজানোর পর সাদা কাগজে তিন জন ব্যক্তির স্বাক্ষর নিয়ে
পূণরায় সেগুলো বোতল ব্যাগভর্তি করে ফাড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা।

লিটন মিয়া আরও বলেন, ‘সকাল পৌনে ১০টার দিকে এক মাঝি আমার কাছে এসে বলে নৌকায়
বসে থাকা দুইটা ছেলের কাছে মাদক আছে। পরে আমি নিশ্চিত হয়ে ফাড়ির এএসআই
আখতারুজ্জামানকে ঘটনাটি খুলে বলি। এরপর তিনিসহ চারজন পুলিশ এসে চারটা ব্যাগসহ একটা
ছেলেকে আটক করে। তবে আরেকজন পালিয়ে যায়।’

চারটা ব্যাগে কমকরে হলেও হাজারের মতো ফেনসিডিল ছিল। তারপর আমার অফিসে একটা
ব্যাগের ফেনসিডিল নাই গুনতে তারা এখান থাকি চলে গেল। ব্যাপারটা আমি বুঝলাম না।
এরপর শুনি পুলিশ নাকি বালাসী থাকি ১৩৬ বোতল ফেনসিডিল আর একজনকে আটক করেছে।
এটা শুনে মেজাজ তো সেই খারাপ হয়ে গেল। আমি বিষয়টা এসপি স্যারকেও বলেছি। দেখি কী
হয়। আমি এই ঘটনার তদন্ত চাই; পুলিশদের বিচার চাই।

লিটন মিয়া বলেন, ‘আমার অফিস রুমে ফেনসিডিলগুলো আনলো; কিছু হিসেব করলো আর
বাকিগুলো ওমনিই নিয়ে চলি গেল। কিন্তু তারা (পুলিশ) সাদা কাগজে তিন জনের স্বাক্ষর নিল
সেখানে আমার স্বাক্ষর না নিয়েই চলে গেল। এত বড় একটা কাম ফাটাই দিলাম; কিন্তু ধন্যবাদ
পাইলাম না।

এ বিষয়ে অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ফাড়ির এএসআই আখতারুজ্জামান বলেন, ‘অভিযানের পর
আমার বড় স্যার (ইনচার্জ) ঘটনাস্থলে আসেন। তিনিসহ স্থানীয় লোকজনের সামনে দুই ব্যাগ
ফেনসিডিল হিসেব করে ১৩৬ বোতল জব্দ তালিকা করা হয়।

এদিকে, চার ব্যাগে ১ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের অভিযোগ ও দাবি উঠলেও ফাড়ির
ইনচার্জ মাজেদুর রহমানের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় দুই ব্যাগ ফেনসিডিল। সেখানে ১৩৬
বোতলের বেশি ফেনসিডিল ছিল না। এ হিসেবেই জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর