বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গাইবান্ধায় দর্জি শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও সেলাই সামগ্রী বিতরন স্থানীয় সম্পাদকদের সাথে প্রেসক্লাব গাইবান্ধার মতবিনিময় ক্রেতা সেজে গাজা ব্যবসায়ীকে নিজেই গ্রেফতার করলেন ডিবির ওসি ভূয়া র‌্যাব পরিচয়ে প্রতারনা, যুবক গ্রেফতার রকি হত্যা মামলার প্রধান আসামী কাঞ্চন ও সোহাগ গ্রেফতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন আতোয়ার রহমান জাফরুল স্মৃতি সংসদ নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ী টিম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বোয়ালীর জনগনের সেবক হিসেবে কাজ করতে চান জাহিদ গাইবান্ধা পানি নিস্কাশন ড্রেন ও স্লাব নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন-হুইপ মা হারালেন সাংবাদিক সম্রাট!

এবার প্রধান শিক্ষককে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভয় দেখিয়ে হুমকি

বিশেষ প্রতিনিধি / ২২৭ বার পঠিত
সময় : মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট, ২০২১, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাইবান্ধা সদরের মালিবাড়ি বোরহানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ণমূলক কাজ শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই কোন কারণ ছাড়াই র‌্যাম ভাঙ্গার কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পর, এবার ভাইকে দিয়ে ওই বিদ্যালয়োর প্রধান শিক্ষককে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভয় দেখিয়ে হুমকি দিয়েছেন সেই আ.লীগ নেতা মতিউর রহমান রানা।

সোমবার সকালে প্রধান শিক্ষক শাহজাদী হাবিবা সুলতানা (পলাশ) কে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে হুমকি দেন আ.লীগ নেতার ছোট ভাই রিপন। এ ঘটনায় পরিবার ও নিজেকে নিয়ে শঙ্কিত প্রধান শিক্ষক। সরকারি চাকরি করেন বিধায়, আইনি সহায়তা পেতে কর্তৃপক্ষের কাছে চাইবেন অনুমতি ও সহযোগিতা। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রধান শিক্ষককে সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

এর আগে সদর উপজেলার মালিবাড়ি বোরহানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লকের নির্মাণ কাজের জন্য ভবনের পুরাতন র‌্যাম ভাঙার কাজ শুক্রবার সকালে শুরু হলে, কোনো কারণ ছাড়াই, নিজের ইচ্ছেমত, ক্ষমতার জোরে ওই দিনই বিকেল ৩টার দিকে বন্ধ করে দেন সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারন সম্পাদক মতিউর রহমান রানা। পরে বিদ্যালয়ের সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ার খবরটি ফেসবুক, অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হলে এই হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মতিউর রহমান রানার দাদা মৃত সিরাজুল রহমান ওই বিদ্যালয়ের জমি দাতা। তার মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী রানার বাবা মকবুল হোসেন এই পদটি পাওয়ার কথা থাকলেও মকবুল হোসেন জীবিত থাকার পরেও নিয়মবহির্ভূত ভাবে পদটি দখল করে এবং বিগত কমিটিতে পরপর দুইবার সভাপতি পদে থাকেন রানা।

পরে ২০১৮ সালে তৃতীয় বার সভাপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কিন্তু বিধিমালা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দুই বারের বেশি সময় কোন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার সুযোগ না থাকায় ভেস্তে যায় স্বপ্ন। এরপর থেকে সে স্কুলের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজসহ না না বিষয়ে সবসময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এডহক কমিটির সদস্য ও সরকার দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বাঁধা প্রদান করছেন তিনি। এর ফলে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা কাজ ব্যহত হচ্ছে বলেও জানান তাঁরা। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কথা বলার সাহস রাখেনা কেউই । কেননা, তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই দেওয়া হয় হুমকি-ধামকি। দেখানো হয় মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয়।

অন্যদিকে প্রশ্ন উঠেছে মতিউর রহমান রানার ওই বিদ্যালয়ের কমিটিতে দাতা সদস্য হিসেবে থাকার বৈধতা নিয়েও। বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

হুমকি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান শিক্ষক শাহজাদী হাবিবা সুলতানা (পলাশ) বলেন, “সকালে রানার ভাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভয় দেখিয়ে আমাকে হুমকি দিয়ে উচ্চকন্ঠে বলেন, কেন আমার ভাইকে নিয়ে ঘাঘট পত্রিকায় নিউজ হল? আমি আপনাকে  নিষেধ করেছিলাম বিষয়গুলো বাহিরে না জানানোর জন্য এবং  আমি স্কুলে যাবো কি না তা জানতে চান। পরে আমি স্কুলে গেলে রানা আমার স্বামী সম্পর্কে বিভিন্ন অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন এবং আমাকে হুমকি দিয়ে   শিক্ষামন্ত্রী, সচিব , ডিপিইও এবং জেলা প্রশাসকের ভয় দেখান।” তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য জরুরী রেজুলেশন করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ‘বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি পেয়ে বিদ্যালয়ের র‌্যাম ভাঙ্গার কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু রানা সাহেব অযৌক্তিক প্রশ্ন তুলে প্রভাব দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়”। এর আগেও তিনি নানা সময়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কাজে আমাকে অসহযোগিতা করে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করিয়েছেন”। এসময় বিভিন্ন শঙ্কার কথা জানিয়ে হুমকির ঘটনায় আইনি সহায়তা পেতে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি ও সহযোগিতা চাইবেন বলেও জানান তিনি।

২০১৮ সালে ১১ ভোটের মধ্যে ৯ ভোট পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের নির্বাচিত সভাপতি আজাদ মিয়া বলেন, “এই স্কুলে রানা দুই দফায় সভাপতি পদে ছিলেন। কিন্তু বিধিমালা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দুই বারের বেশি সময় কোন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার সুযোগ না থাকায়, তৃতীয় দফায় সভাপতি না হতে পেরে আদালতে মামলা করে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে রেখেছেন। যার ফলে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে” বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি চান তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান রানা বলেন, আমার বাপ-চাচারা দীর্ঘদিন কমিটিতে থেকে বিদ্যালয়ের কোনো উন্নতি করতে পারে নাই। তাই তারা আমাকে দাতা সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। আমি বিভিন্ন নেতাদের কাছে অনেক দৌড়া-ঝাপ করে ছয়তালা ভবনের কাজ নিয়ে এসেছি, এখন তিনতলার কাজ হয়েছে। এই ভবনেরই  র‌্যাম ভাঙ্গার বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। রেজুলেশনে আমার স্বাক্ষরও নাই। তবে, কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, র‌্যাম ভাঙ্গার বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি আছে কী না তা যাচাইয়ের জন্য সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। এখন কাজ চলছে”। কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে আপনি কাজ বন্ধ করতে পারেন কি না? এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা মতিউর রহমান রানা।

এছাড়া প্রধান শিক্ষককে ভাইকে দিয়ে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে  তিনি বলেন,” বিষয়টি আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে জেনেছি। পরে ছোট ভাইকে অনেক পেটানো হয়েছে। ছোট মানুষ ওই বুঝতে পারেনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাকিরুল হাসান বলেন, “প্রধান শিক্ষক জরুরী উন্নয়ন কাজের রেজুলেশন করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই র‌্যাম ভাঙ্গার কাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি আমরা অবগত আছি।” সরকারি কাজে বাঁধা দিয়ে রানা অন্যায় করেছেন । যেহেতু তিনি এডহক কমিটির সদস্য সুতরাং কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কাজ আটকে দেওয়ায় তিনি আইন লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধায় যোগদান করার আগে মালিবাড়ি বোরহানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি হয়েছে জানিয়ে বলেন,” যদি জমি দাতার ওয়ারিশ হিসেবে মতিউর রহমান রানা সদস্য পদে থাকার মতো বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকে তবে, বিদ্যালয়ের কমিটিতে তার থাকার কোনো সুযোগ নাই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

সরকারি কাজ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ” লিখিত অভিযোগ পেলে তাকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হবে এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

(বিডিপোস্ট71/২৪আগস্ট/জেএইচ)

 

 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর