মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

ধোঁকাবাজির অপর নাম “সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ”

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ২৩৯ বার পঠিত
সময় : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:৩১ অপরাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সরকারি-বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্য ও ধোঁকাবাজি করতেই গাইবান্ধায় সম্প্রতি গঠন করা হয়েছে “সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ” নামের একটি সংগঠন। নামমাত্র কিছু প্রবীণ ও নবীনদের সাথে নিয়ে চলতি বছরেই সংগঠনটির জন্ম হয়। ইতোমধ্যে সদ্য গঠিত সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে নান প্রশ্ন ও বিভিন্ন সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক মহলে। শুধু অভিযোগেই শেষ নয় সংগঠনটিকে বয়কট ঘোষণাও করেছে জেলার চারটি প্রেস ক্লাবের তিনটি প্রেস ক্লাবসহ পাঁচটি সাংবাদিক সংগঠন। একই সাথে নব্য গঠিত “গাইবান্ধা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ” বিলুপ্তির দাবিও জানান গাইবান্ধার মূলধারার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, জেলা উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে “সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ” নাম ব্যবহার করে অতি সহজে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতেই সংগঠনের নাম দেওয়া হয়েছে “গাইবান্ধা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ”। সংগঠনটির এই নাম মানেই জেলার সকল সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনকেই বুঝাবে। তাই তারা এমন নাম বেছে নিতে ভুল করেননি।

কিন্তু কল্যাণ পরিষদ নামের এই সংগঠন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। মূলত জেলার দু-চারজন সিনিয়র সাংবাদিককে সংগঠনের সদস্য বানিয়ে এই নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থান থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতেই এই সংগঠন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সর্বসাধারণকে ধোকা দিয়ে কার্যসিদ্ধির জন্যই এ নাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও প্রমাণিত হয়েছে।

সম্প্রতি জেলা পরিষদ হতে অনৈতিক পন্থায় দফায় দফায় মোটা অংকের টাকা নেওয়া ও তাদের মনোনীত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে অর্থ প্রদাণ করার বিষয়টি তাই প্রমাণ করে।

জেলা পরিষদের একটি সূত্র জানায়, করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্থ সাংবাদিকদের জন্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের কাছে “গাইবান্ধা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ” নামের একটি সংগঠন অর্থ দাবি করে। পরে সম্পূর্ণ নিয়ম বর্হিভূতভাবে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। তবে, তাদের দাবি “গাইবান্ধা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ” এর নাম করে অর্থ চেয়ে তাদের সাথে রীতিমতো ধোঁকাবাজি করা হয়েছে। কেননা, তারা জানতো “গাইবান্ধা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ” বলতে জেলার চারটি প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিকদের সকল সংগঠনের সমন্বয়ে করা গঠিত সংগঠন। কিন্তু তারা পরে জানতে পারে আসলে এই সংগঠন গাইবান্ধার সকল সাংবাদিক কিংবা সাংবাদিক সংগঠন নিয়ে গঠিত হয়নি। কেবল একটি প্রেসক্লাবের সকল সদস্যসহ তাদের বাহিরে কিছু সংখ্যক সদস্য নিয়ে প্রতারণা করতেই এই সংগঠন তৈরি করা হয়েছে।সংগঠনটির এমন কর্মকান্ডে তীব্র নিন্দা জানায় তারা।

এদিকে, করোনাকালে গাইবান্ধার ক্ষতিগ্রস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের প্রণোদনা দেওয়ার কথা জানিয়ে জেলা ও উপজেলার সাংবাদিকদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহবান করে সংগঠনটি। আশানুরূপ দরখাস্ত পেতে ব্যর্থ হলে, পরে জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক সংগঠন গুলোতে চিঠি দিয়ে দরখাস্ত আহবান করা হয়। পরে বুধবার(১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল হিসেবে আবেদনকারী সাংবাদিকদের প্রণোদনার চেক দিতে জেলা পরিষদের হলরুমে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করে জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনে ও সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয় সংগঠনটি। কিন্তু তাদের মনগড়া আয়োজিত ঐ অনুষ্ঠানে প্রণোদনার টাকার উৎস ও বিভিন্ন সমন্বয়হীনতার কারণে জেলার চারটি প্রেসক্লাবের মধ্যে তিনটি প্রেসক্লাব, (কাচারী বাজার প্রেসক্লাব, গোরস্থানমোড়, জেলা প্রেসক্লাব), রিপোটার্স ইউনিটি ও ক্যামেরাপারসনদের সংগঠন গাইবান্ধা ফটো এন্ড ভিডিও জার্নালিষ্ট এ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুষ্ঠানটি বর্জনের ঘোষণা দেয়। একই সাথে কল্যাণ পরিষদের অসৎ উদ্দেশ্যের বিষয়টি জানতে পেরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও প্রধান নির্বাহী আব্দুর রউফ তালুকদার অনুষ্ঠানে না যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে তাদের অনুপস্থিতিতেই অনুষ্ঠান করে সংগঠনটি। অনুষ্ঠানে জেলার মূল ধারার ক্ষতিগ্রস্থ সাংবাদিক, তিনটি প্রেসক্লাব, ফটো এ্যান্ড ভিডিও জার্নালিষ্ট এ্যাসোসিয়েশন এবং রিপোটার্স ইউনিটিকে বাদ দিয়ে কিছু সংখ্যক সাংবাদিক এবং দুটি সংগঠনকে সেই (নাম উল্লেখ করা নাই) টাকা প্রদান করে। এর মধ্যে একটি সংগঠন সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের।

সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের এমন কর্মকান্ডকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে পুরো জেলাজুরে । জেলার সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কি করে নতুন একটি সংগঠনকে জেলা পরিষদ এতগুলো টাকা বরাদ্দ দেয়? যেখানে জেলার চারটি প্রেসক্লাবের দুটি প্রেসক্লাবসহ চারটি সাংবাদিক সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা নেই বরং রয়েছে চরম বিরোধিতা ।

প্রেসক্লাব গাইবান্ধা’র (গোরস্থান মোড়) যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাভেদ হোসেন বলেন, নামমাত্র কিছুসংখ্যক নবীন এবং প্রবীণ সাংবাদিক “সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ”গঠন করেছে। এটি সাংবাদিকদের কোনো ঐক্যের সংগঠন নয়।

জেলা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি রেজাউন্নবী রাজু বলেন, “ধোঁকাবাজি করতেই গাইবান্ধার কতিপয় সাংবাদিক “সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ” নামটি ব্যবহার করছে। আসলে এটি জেলার সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত কোনো সংগঠন নয়। আমরা রিপোর্টাস ইউনিটি এই সংগঠনকে বয়কট ঘোষণা করেছি”।

এ বিষয়ে প্রেসক্লাব গাইবান্ধা (কাচারী বাজার) ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আবেদুর রহমান স্বপন বলেন, “গাইবান্ধা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদটা হলো কিছু সাংবাদিকের ব্যানার। যেটাতে জেলার অনেক সাংবাদ ও সাংবাদিক সংগঠনের সমন্বয় নেই।এছাড়া সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে তিনি বলেন,” আমাদের যে কোনো ধরনের প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ আমরা নিজেরাই যাবো। যে কোনো ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমরা নিজেরাই জানাবো। আমরা কারো ভায়া হবোনা”। এসব বিষয়ে সকলকে সতর্ক থানার আহবান করেন তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংগঠনটির আহবায়ক গোবিন্দলাল দাসকে একধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, দুই বছর আগে গাইবান্ধা সাংবাদিক কল্যণ পরিষদকে হয়তো জেলা পরিষদ থেকে একবার টাকা দেয়া হয়েছিলো কিন্তু আমি তখন এখানে ছিলাম না। তবে অফিসে আসেন আমি ফাইল দেখে বিষয়টি পরিস্কার বলতে পারবো।

বিডিপোষ্ট৭১/আরএ

নিউজটি শেয়ার করুন


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর