মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধার সেই অন্ধ মমিনের পাশে সমাজ সেবক সোহেল পারভেজ

মাসুম বিল্লাহ, বিশেষ প্রতিবেদকঃ / ৭৯ বার পঠিত
সময় : শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১, ১১:১০ অপরাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার দুই চোখ হারানো সেই অন্ধ মমিন মিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে, আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন সমাজ সেবক সোহেল পারভেজ। আর্থিক সহযোগিতা হিসেবে অন্ধ মমিনকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেন তিনি। এসময় অন্ধ মমিনের আবদার পূরণ করতে এককালীন ভাতা ও তার ঘর মেরামত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন সোহেল পারভেজ।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অন্ধ মমিনের হাতে এই নগদ অর্থ তুলে দেন তিনি।

এর আগে “পোড়া ক্ষত শুকালেও অর্থাভাবে দুই চোখের আলো ফেরেনি মমিন’র” এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল “সময়নিউজ২৪.কম”, “বিডিপোস্ট৭১”। এছাড়া মমিনের দুই চোখ অন্ধ ও তার পরিবারের করুন চিত্র তুলে ধরে, ফলাও করে প্রচার করে “ফুলছড়ি টিভি”।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের খামার কঞ্চিপাড়া গ্রামের সমিতির বাজার এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মমিন মিয়ার বয়স ৩৬ ছুঁইছুঁই। নিজ গ্রামেই কাঁচা বাজারের ব্যবসা করতেন। কিন্তু ব্যবসায় লোকসান আর দেনার দায়ে পাঁচ বছর আগে পাড়ি জমান রাজধানী ঢাকায়। কাজ নেন ঢাকার ওয়ারী পার্টি সেন্টার নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারে।সেখানে অনুষ্ঠানের আচার (চাটনি) তৈরীর সময় তেল ফুটে বাম চোখে যায়। নেওয়া হয় ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে। ডাক্তারি পরিক্ষা শেষে চোখ অপারেশনের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। চোখের অপারেশন শেষে চিকিৎসক চৌদ্দ দিনের বেড রেস্ট (বিশ্রাম) নির্দেশনা দিলে, গাইবান্ধায় বাড়িতে আসেন মমিন মিয়া। বাড়িতে চৌদ্দ দিন থাকার পর আবারো যান ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে। চিকিৎসক দেখার পর জানান, অপারেশন করা চোখের সেলাই লুজ (ঢিল) হয়েছে। ফলে আবারো অপারেশন করতে হবে। চিকিৎসকের কথামতো দ্বিতীয় দফায় আবারো অপারেশন করা হয়। কিন্তু ২য় দফা অপারেশন করেও শেষ রক্ষা হয়নি। পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায় চোখ। প্রায় এক বছর আগে গত বছর বাড়ি ফেরেন অন্ধ হয়ে।

এর দুই বছর আগে ছ মিলের কাঠের গুড়া পড়ে ডান চোখে। চিকিৎসা নেন ঢাকার শ্যামলী চক্ষু হাসপাতালে। করা হয় অপারেশন। সেখানে প্রায় তিনমাস চিকিৎসার পর ডান চোখটিও নষ্ট হয়েছিল তাঁর।

এছাড়া কমিউনিটি সেন্টারে কাজে যোগদানের দুই বছরের মাথায় গ্যাসের আগুনে মরতে বসেও বেঁচে যায় মমিন মিয়া। মমিন মিয়া জানায়, গ্যাস লাইনের রেগুলেটর চালু থাকায় সারারাত চুলায় গ্যাস জমেছিল। রান্না করার জন্য সকালে গ্যাসের চুলা চালু করতেই বিকট শব্দে আগুন ধরে যায়। এতে শুধু চুলায় আগুন ধরেনি, আগুন ধরে মমিনের হাত, পাঁ আর গাল পুরে ঝলসে যায়। সময়ের ব্যবধানে ভালো হয় পোঁড়া ক্ষত, বেঁচে যায় মমিন কিন্তু চিহ্ন রেখেছে হাতে-পাঁয়ের পোড়া দাগগুলো।

এদিকে দুই দফায় অপারশেনের পরেও চোখ ভালো না হওয়ায় পরিক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভারতে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার চিকিৎসকরা। কিন্তু টাকার অভাবে তা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া তের বছরের মেয়ে মীম আক্তার ক্লাস সিক্সে পড়ে, ছেলে আসিফ (১০) ও ছেলে শাকিল (০৯) পড়ালেখা করে। তাদের পড়াশোনা প্রায় বন্ধ আর পাঁচ সদস্যের সংসার চলছে অনাহারে-অর্ধাহারে।

আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে অন্ধ মমিন মিয়া বলেন, ” সোহেল ভাইয়ের এই টাকা সাহায্য পেয়ে আমার অনেক উপকার হলো। আমরা খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। এই টাকায় চাল-ডাল কিনে সন্তানদের খাওয়ার কথা জানায় মমিন। এছাড়া ডাক্তাররা বলেছেন ভারতে অপারেশন করলে চোখ ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু এতটাকা কোথায় পাবো? এ অবস্থায় সন্তানের পড়ালেখার খরচ আর চোখের অপারেশন করাতে সরকার, দেশের সরকারী-বেসরকারী দানশীল সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানান তিনি”।

সমাজ সেবক সোহেল পারভেজ বলেন,” আমি ফেসবুকে ও এলাকার লোকের কাছে মমিনের অন্ধ হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজ খবর নেই। তারপর আজ এই সামান্য টাকা সহযোগিতা করি”। তবে, উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে স্থায়ী ভাতা ও নিজ অর্থায়নে মমিনের ঘর মেরামত করে দেওয়ার কথা জানান তিনি। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,, ” আমার এই সহযোগিতার সাথে ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এরকম সহযোগিতা আগেও করেছি, এখনও করছি, আগামীতেও এই ধারা অব্যহত থাকবে। তবে, তিনি কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে ইউনিয়নের এরকম অসহায়-দারিদ্রের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবো। সমাজ থেকে মাদক-জুয়া নির্মূল করাসহ শিক্ষার ব্যাপক প্রসারে কাজ করার কথাও জানান সোহেল পারভেজ শালু।

এর আগে কঞ্চিপাড়া যুব সমাজের আয়োজন, একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলার উদ্বোধন করেন সোহেল পারভেজ।

বিডিপোষ্ট৭১/আরএ/৮ অক্টোবর

 

সংবাদটি শেয়ার করুন


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর