বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গাইবান্ধায় দর্জি শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও সেলাই সামগ্রী বিতরন স্থানীয় সম্পাদকদের সাথে প্রেসক্লাব গাইবান্ধার মতবিনিময় ক্রেতা সেজে গাজা ব্যবসায়ীকে নিজেই গ্রেফতার করলেন ডিবির ওসি ভূয়া র‌্যাব পরিচয়ে প্রতারনা, যুবক গ্রেফতার রকি হত্যা মামলার প্রধান আসামী কাঞ্চন ও সোহাগ গ্রেফতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন আতোয়ার রহমান জাফরুল স্মৃতি সংসদ নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ী টিম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বোয়ালীর জনগনের সেবক হিসেবে কাজ করতে চান জাহিদ গাইবান্ধা পানি নিস্কাশন ড্রেন ও স্লাব নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন-হুইপ মা হারালেন সাংবাদিক সম্রাট!

দিনে তালা, রাতে বাগানে অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ২৩৮ বার পঠিত
সময় : শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সরকারি অফিসে সাধারণত কাজের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা। কিন্তু গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রউফ তালুকদার দাপ্তরিক কাজকর্ম শুরুই করেন সন্ধ্যার পর, চলে মধ্যরাত এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত। তাও আবার ডাকবাংলার সামনে বাগানে বসান এই অফিস । এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা চেয়ারম্যান এবং ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে অসদাচরণ, কাজের পরিবেশ নষ্ট করাসহ নানা অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

পাহাড় সমান অনিয়ম আর অভিযোগ নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলা জেলা পরিষদের নামে অনিয়মের একাধীক সংবাদ প্রকাশ হলেও অজ্ঞাত কারণে সেই সংবাদের কোন তদন্ত বা দাপ্তরিক কোন পদক্ষেপ নেয়নি উদ্ধর্তন মহল । ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জেলা পরিষদের নানা অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও, এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে নতুনভাবে যোগ হয়েছে রাতে বাগানে অফিস করা।

সরেজমিনে, জেলা পরিষদে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। দোতলায় চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহীর কার্যালয়ে ঝুলছে তালা। নিচতলার কয়েকটি রুম খোলা থাকলেও বেশিরভাগ রুমে গিয়ে কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদের এক কর্মচারী জানান, দিনের বেলা সাধারনত চেয়ারম্যান ও নির্বাহী স্যার অফিস করেন না। অফিসে আসলেও কিছুক্ষন থাকার পর চলে যান। তবে রাতের বেলা নিদিষ্ট সময়ে অফিসে বসে তারা অফিসিয়াল কাজকর্ম করেন। এছাড়াও জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর বাগানে তারা নিয়মিত বসেন।

জেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মোতাল্লেব মিয়া বলেন, কয়েকদিন থেকে চেয়ারম্যান স্যারের দেখা করতে এসে তার দেখা পাইনি। নির্বাহী স্যারের রুমেও তালা দেয়া। চেয়ারম্যানের একটা সাক্ষর আমার খুব দরকার।

গিদারী ইউনিয়নের দিনমজুর রফিক মিয়া বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে তিন-চারদিন থেকে জেলা পরিষদে আসছি চেয়ারম্যানের দেখার করা জন্য। কিন্তু তার দেখা পাচ্ছি না। অফিসের লোকজন শুধু বলে আবেদন জমা দিয়ে যান। কিন্তু এর আগেও একটি আবেদন জমা দিয়ে কোন প্রতিকার পাইনি। তাই এবার চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম যদি কোন সাহায্য পাই।

জেলার সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অনান্য কর্মকর্তাদের দিনের বেলা অফিস না করাটা অন্যায় এবং সংবিধান পরিপন্থি। জনগণের সেবক হয়ে জনসাধারন যদি সেবা থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে এই জেলা পরিষদের কাজটা কি? সেখানে রাতে অফিস করে জনগনকে কি সেবা দিবে প্রশ্ন থেকে যায়ং। তারা মনে করেন এ পর্যন্ত মিডিয়াতে যত অনিয়ম প্রচার হয়েছে অবশ্যই তার তদন্ত হওয়া দরকার এবং দায়িত্ব অবহেলা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও দরকার।

দিনে অফিস না করা এবং রাতে বাগানে অফিস করার বিষয়ে হিসাব রক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমারা ছোট চাকরী করি আমাদেরকে যেভাবে চালাবে আমার সে ভাবেই চলবো। তবে এভাবে অফিস করে আমরা বেশ অসুবিধায় ভুগী। বিশেষ করে আমাদের ‍ঘুমের সমস্যাটা অনেক বেশি হয়।

সহকারী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা নিরুপায় হয়েই রাতে অফিস করছি। আমি কিছুদিন হলো জেলা পরিষদের যোগদান করেছি কিন্তু বিগত আড়াই বছর আগে এখানে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি কোনরকম কাজই করেননি। সেই পুরনো ফাইল গুলো দেখতে আমাদেরকে অফিস টাইম শেষে বাড়তি সময় (রাতে) কাজ করতে হচ্ছে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, রাতে কাজ করা যদিও নিয়মের মধ্যে পড়ে না তবুও আমাদের করতে হচ্ছে। দিনে তালা, রাতে বাগানে অফিস কেন করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

বিডিপোষ্ট৭১/আরএজেএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

 

 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসুবকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর